Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভালোবেসে বিয়ে করেছিল অন্তরা।

 ভালোবেসে বিয়ে করেছিল অন্তরা। যে ছেলেকে বিয়ে করেছে সে ছেলে অন্তরাকে ভালোবাসার কথা বলে এসেছে চার বছর, অথচ অন্তরা তার সেই ডাকে সাড়া দিলো না। অন্তরার মাথা খারাপ হয়েছে বৈকি? নিশ্চয়ই হয়েছে। মাথা খারাপ না হলে যে মানুষটার ভালোবাসার ডাকে চার বছরে সাড়া দেয়নি সেই মানুষটার ভালোবাসায় এতটাই আগ্রহী হয়ে উঠলে যে সে মানুষটাকে ছাড়া অন্তরা আর কিছুই ভাবতে পারলো না। কোন প্রেমের ভূতে পেয়েছে অন্তরাকে যে নিজের বয়সের চেয়ে তেরো বছরের বেশি হওয়া এক যুবকের পিরিতে নিজেকে ভাসাতে মরিয়া হয়ে উঠলো, তা অন্তরা ভেবে ফেলো না। মানুষটা চার বছরে দারুন সব পাগলী করেছে অন্তরার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সেই পাগলামি হয়তো অন্তরাকে প্রভাবিত করেছে। অন্তরা ভালোবাসলো যুবককে। একদিন দু'দিন, এক মাস, ছয় মাস। যুবকের ভালোবাসা এতোই তীব্র ছিল অন্তরার প্রতি যে- অন্তরার মনে হলো এমন একখানা মানুষই তো সবাই চেয়ে থাকে, আমিও চেয়েছি। এমন একখানা মানুষের সাথে আলুথালু একখানা সংসার করে জীবনের সমস্ত বসন্ত ফুরিয়ে দেওয়া যায় অনায়াসে।


কোন প্রেমের ভূত অন্তরার মাথায় ভর করেলো কে জানে? অন্তরা শেষমেশ বিয়ে করলো ওই যুবককে। বিয়ের দু'দিন পর পালালো বাড়ি থেকে দূরে কোথাও। ছোট একটা বাসা নিল। ওই বাসায় শুরু করবে সংসার এই ভেবে সারাদিন ঘুরে ঘুরে কেনাটা করলো। সংসার শুরু হলো অন্তরার। শুধু সে সংসার মনে হলো একার। বেকারির ব্যাবসায় ছিল স্বামীর। বাসায় মেনে নিবে না সে জন্য চুপি চুপি বিয়ে করেছে ওরা। সারাদিনে দু'ঘন্টার জন্যে আসে অন্তরার স্বামী বাসায়, তারপর ফের চলে যায়। সারা রাত সারা দিন একা থেকে স্বামীকে মাত্র পাশে পায় একটা দু'ঘন্টা জন্য। অন্তরা একা হলো খুব। কোন কোন দিন রাতে একটা বাসায় একা থাকতে ভয় হতো তার, সে সময় খুব কান্না পেতো। কোথায় যাবে অন্তরা? এ কেমন সংসার? এমন সংসার তো সে চায়নি যে সংসার করতে গিয়ে তাকে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচতে হবে, তাও আবার একা। যার জন্য যাবতীয় সবকিছু ছেড়ে এসেছে সেও থাকবে না পাশে ঠিকঠাক।

সাত দিন পর অন্তরার স্বামী জানালো, বাসা হতে বিবাহ মেনে নিয়েছে, অন্তরার শাশুড়ী বউ নিয়ে বাসায় যেতে বলেছে। অন্তরার খুশির সীমা রইল না। বিধাতা বোধহয় দুঃখের পরেই কপালে লিখে রাখেন সুখ। অন্তরার মা মারা গেল তার বারো বছর বয়সে। অন্তরা এবার একটা মা পাবে। বাসায় যাওয়া হলো। যেদিন বাসায় গেল সেদিন প্রথম দাক্কাটা খেল অন্তরা, মুখ চেয়ে পেলো একটা মুখোশ। যে যুবককে ভালোবেস বিয়ে করেছে তার আগেরও একটা বউ আছে, সে বউ এর আছে দুটো পুত্র সন্তান। এমন দাক্কা কিভাবে মেনে নিতে হয়? জানা নেই অন্তরার, তবুও বাড়ি ছেড়ে এসেছে আর তো ফিরে যেতে পারবে না ভেবে মেনে নিয়ে থেকে যায়। অন্তার যেদিন বাড়ি গেল সেদিন তার শাশুড়ি বিদেয় করে দিয়েছিলো কাজের লোককে। বেকারির কর্মচারিদের খাবার রান্না থেকে শুরু করে নানান কাজ করতে হচ্ছিল রোজ অন্তরাকে। একবারে হাঢ়ভাঙা খাটনি যারে বলে আর কি!, অন্তরার স্বামী সারাদিন বেকারির কাজ সামলিয়ে রাতে আগের স্ত্রীর সাথে ঘুমায়, খায়, গল্পগুজব করে, রসিকতা করে, আনন্দের জীবন ওদের। অথচ অন্তরাই কেবল যেন সবার থেকে আলাদা। অন্তরা বুঝে উঠতে পারছিল না সে কেন বিয়ে করেছে? এখানে সে কেনো পড়ে আছে? স্বামীর ভালোবাসা পাচ্ছে না, শাশুড়ীর কাছে ছেলের বউয়ের মর্যাদা পাচ্ছে না, আগের স্ত্রীর কাছে প্রতি মুহূর্তে শুনতে হচ্ছে কাটাছেঁড়া কথা। অপমানিত হতে হচ্ছে প্রতিটা মুহূর্ত। দাসীর মতো করতে হচ্ছে অমানুষিক পরিশ্রম। অন্তরার মনে হলো সময় সবকিছু ঠিক করে দেবে, কিন্তু সেটাও হলো না। ভাত কমবেশি খাওয়া নিয়ে শাশুড়ির সাথে ঝগড়া হওয়ায় শাশুড়ী ধরে খুব মারলো তাকে, সঙ্গে যুক্ত হয়ে মারলো অন্তরার স্বামীর আগের স্ত্রীও। শরীরে মারের দাগ নিয়ে স্বামীর কাছে গিয়ে যখন অন্তরা জানালো সবকিছু, স্বামীও তাকে উল্টো ধরে মারলো পূনরায়। এভাবে সব সহ্য করে থকতে হলে থাকবে নয়তো ডিভোর্স দিবে বলে ধমকও দেয় অন্তরার স্বামী।

মানুষটা তার জন্য চার বছর পাগলামী করলো, বিয়ে করলো, বিয়ের পর জানতে পারলো তার প্রতারণা। এতকিছুর হওয়ার পরও অন্তরার শেষ ভরসা ছিল স্বামী হয়তো তাকে আগলে রাখবেন। আজ সেই স্বামীও মুখের উপর তাকে ডিভোর্স দেবে বলে ধমক দিলো। চমৎকার একটা জীবন কি বিবৎভাবেই না তার নষ্ট করে দিল মানুষটা। ফুলেরা ফুল ভেবে ভুলেদের কাছে চলে যায়, ভুলেরা সেই ফুলকে পায়ে পিষে দেয় দারুণ অবহেলায়।

অন্তরা বাবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। খালি হাতেই যাচ্ছে। বাড়ি থেকে পালানোর সময় ছিল স্বামী, ছিল প্রচন্ড ভালোবাসা। এখন স্বামী নেই, আছে শুধু চোখভরা জল। পৃথিবীর অসংখ্য হৃদয় একই প্যার্টানে খুন হওয়ার শর্তেও যে খুনিকে মানুষ চিনতে পারে না সে খুনির নাম প্রিয়জন, আর খুনের প্যার্টান হলো ভালোবাসি। অন্তরার চোখ ভিঁজে যাচ্ছে, সে খুব কাঁদছে, বহু বছর আগে এভাবে অন্তরা কেঁদেছে মায়ের লাশের পাশে বসে।

লেখা: আরিফ হুসাইন

Post a Comment

0 Comments